Table of Contents
ভ্রমণে ব্যাগ গোছানোর ২৫ টি প্রয়োজনীয় টিপস
ভ্রমণের প্ল্যান করছেন? ট্রেনের টিকিট কাটা, হোটেল বুক করা হয়ে গেছে? কিন্তু ব্যাগ গোছাতে বসে হিমশিম অবস্থা। কোনটা নেবেন আর কোনটা নেবেন না ভাবতেই সময় কেটে যাচ্ছে। আগের বার বেড়াতে গিয়ে দেখেন চিরুনী বা দাঁত মাজার ব্রাশটাই ফেলে গেছেন।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই আপনাদের জন্য একটা লিস্ট বানিয়েছি, দেখুন যদি কিছুটা সাহায্য হয়।
ভ্রমণের ধরণ
এবারের ভ্রমণটি কী ধরণের সেটা মাথায় রেখে ব্যাগ গোছাতে হবে। প্রথমত আপনি কী প্রমোদ ভ্রমণে যাচ্ছেন সমুদ্র কিংবা পাহাড়ে! যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে এক ধরণের জামাকাপড় নেবেন।
দ্বিতীয়ত, ধরে নিলাম আপনার এবারের ভ্রমণটি অফিসের কাজের সূত্রে। এক্ষেত্রে আপনাকে ফর্মাল পোশাক নিতে হবে। অফিস সংক্রান্ত কাগজপত্র গুছিয়ে নিতে হবে।
তৃতীয়ত, যদি আপনার ভ্রমণের সাথে পারিবারিক অনুষ্ঠান যেমন বিয়েবাড়ি যুক্ত থাকে তাহলে তো ব্যাগ একটু ভারী হবেই। এক্ষেত্রে আপনাকে অনেক বেশি সতর্কতার সাথে ব্যাগ গোছাতে হবে। পোশাকের সাথে আনুষঙ্গিক সমস্ত জিনিস ঠিক মতো গোছাতে হবে।
নতুন ব্যাগ কিংবা স্যুটকেস
নতুন ব্যাগ কিংবা স্যুটকেস কেনা থেকেই শুরু করি তবে। প্রথমেই মাথায় রাখবেন ব্যাগের নিজের ওজন যেন যথেষ্ট কম হয়। আজকাল বাজারে বিভিন্ন কোম্পানীর হাল্কা ওজনের ট্রলি ব্যাগ বা স্যুটকেস পাওয়া যায়। স্পেসিফিকেশন থেকে সাইজ ও ওজন অবশ্যই দেখে নেবেন।
দোকানে ঘুরে ঘুরে কিনতে না চাইলে আমার মতোই অনলাইনে কিনে নিতে পারেন। আমি দিয়ে দিলাম দু একটা নিদর্শন।
রুকস্যাক
দেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে আমার মতোই আপনারা যদি রুকস্যাক নিতে বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তবে বিভিন্ন মাপের এবং ওজনের রুকস্যাক অর্ডার দিয়ে ফেলুন। এক্ষেত্রেও স্পেসিফিকেশন থেকে সাইজ ও ওজন দেখে নেবেন অবশ্যই। নাহলে আপনার প্রয়োজনের তুলনায় ছোট কিংবা বড় হয়ে যেতে পারে। আবার এমন ভারী কিনে ফেললেন যে ঘাড় আর পিঠের দফারফা। আমার ব্যাগটার ছবি শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে।
সময় নেই
লাগেজ তো কেনা হল এবার ব্যাগ গোছানোর পালা। অফিস আর ঘর সামলে হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘন্টা। প্রথমেই দেখে নিন যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন সেখানকার আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা। তাপমাত্রা কত থাকবে, বৃষ্টি হবে কিনা, বরফ পড়ার সম্ভাবনা আছে কিনা প্রভৃতি।
লিস্ট বানান
এবার জামাকাপড় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের একটা লিস্ট তৈরী করে ফেলুন। আমার দেওয়া লিস্টটা দেখে একবার মিলিয়ে নিতে পারেন, কিছু বাদ পড়ল কিনা। লিস্টটা আরেকবার রিভিউ করে দেখে নিন প্রয়োজন হলে।
জামাকাপড় রোল করে ব্যাগে ঢোকান
জামাকাপড় ভাঁজ করে নিতে হলে জায়গা বেশি লাগবে তাই সুন্দর করে রোল করে ব্যাগে ঢোকান। একই ধরণের জিনিস এক জায়গায় রাখতে চেষ্টা করুন। আর হ্যাঁ ! এমন ধরণের জামাকাপড় বাছবেন যেগুলো কুঁচ্কে (wrinkle-free) যাবেনা চট করে। প্রয়োজন হলে দু’একটা টপ কিনেও নিতে পারেন।
সবার উপরে প্রথম দিনের পোশাক
বেড়াতে গিয়ে প্রথম দিন যে পোশাকটা পড়বেন বলে মনস্থির করেছেন সেটা সবার ওপরে রাখবেন। নাহলে অযথা ব্যাগের সব জিনিস ওলোট পালট হয়ে যাবে। কোনদিন কোন পোশাকটা পড়বেন, তার সাথে কী কী আনুষঙ্গিক জিনিস লাগবে সবকিছুই পারলে লিপিবদ্ধ করে রাখবেন। এতে সময় অনেকটা বেঁচে যায়।
ভারী জিনিস নিচে
ভারী ওজনের কোন জিনিস নিতে হলে সেটা অবশ্যই ব্যাগের নিচের দিকে ঢোকাবেন। নচেৎ ব্যাগের ভারসাম্য বজায় থাকবে না, উল্টে পড়ে যেতে পারে। প্রয়োজনে প্যাকিং কিউব ব্যবহার করতে পারেন। ছোট ছোট জিনিস নিতে সুবিধে হয়।
ব্যাগের মাপের কথা মাথায় রেখে ব্যাগ গোছাবেন। অতিরিক্ত জিনিস নিলে ব্যাগ বন্ধ করতে অসুবিধে হবে। আবার খুব কম জিনিস ভরলে সব জিনিস ওলোট পালট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে খবরের কাগজ দিয়ে ভরাট করে দেবেন।
বেড়াতে গিয়ে কিছু না কিছু কেনাকাটা করে ফেলেন। তখনকার কথা মাথায় রেখে ব্যাগে সামান্য জায়গা রেখে দেবেন। আর যদি সেটা সম্ভবপর না হয় তবে ভাঁজ করে নিয়ে নিন ছোট একটা ব্যাগ।
ব্যাগ গোছানোর সময়ে যে নিয়মগুলো মেনে চললে আমার বেশ সুবিধা হয় সেগুলো আপনাদের সামনে মেলে দিলাম।
- ৫ সেট মোজা এবং অন্তর্বাস
- ৪ সেট টপ
- ৩ সেট বটম
- ২ সেট জুতো
- ১টি টুপি
সুইম স্যুট
সাঁতার কাটার কোনও সুযোগ থাকলে একটি সুইম স্যুট নিতে পারেন। জলে নামার চশমা এবং টুপিও থাকলে নিয়ে নেবেন। যদি ভোরবেলা জগিং করার অভ্যেস থাকে তবে একটি ট্র্যাকস্যুট নিয়ে নেবেন।
তেল বা ময়শ্চারাইসার
সাথে যদি তেল বা ময়শ্চারাইসার নিতে চান তাহলে বোতলের মুখ ভাল করে সীল করবেন। আলাদা একটি স্বচ্ছ চেন আটকানো ব্যাগে সব সাজার জিনিস ভরে নিলে আরো বেশি সুবিধে হয়।
তরল জিনিসের বোতল
যদি ট্রেনে না গিয়ে প্লেনে যান তাহলে এই ধরণের ব্যাগ অবশ্যই নেবেন যার মধ্যে তরল জিনিস নেবেন। এই সব তরল জিনিসের বোতলের মাপ ১০০মিলিলিটারের বেশী যেন না হয়। প্রয়োজনে ট্র্যাভেল কিট সেট কিনে রাখতে পারেন।
প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র
এবার চলে আসি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের কথায়। জ্বর-পেটখারাপ-বমি-মাথা ব্যাথার ওষুধ অবশ্যই সাথে রাখবেন। এছাড়া আপনার যদি প্রতিদিন খাওয়ার কোনও ওষুধ থাকে তা নিতে কখনোই ভুলবেন না।
আপনি যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন, ওষুধের দোকান হয়ত পেয়ে যাবেন। অযথা সময় নষ্ট হবে। তাছাড়া রাত বিরেতেও তো প্রয়োজন হতে পারে। পাহাড়ে বেড়াতে গেলে বমি কিংবা শ্বাস কষ্টের ওষুধও রাখতে পারেন। তবে যে ওষুধই সঙ্গে নিন ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেবেন।
ওষুধপত্র প্রয়োজনে যাতে চট করেই খুঁজে পান তার জন্য ছোট কোনো পাউচে করে হাত ব্যাগে রাখবেন। সাথে একটা ছোট জলের বোতলও রাখবেন। প্রয়োজনে হোটেলের পরিশোধিত জল ভরে নিতে পারবেন। রোজ রোজ জল কিনতে হবেনা।
আরও পড়ুন
দার্জিলিং টয় ট্রেন জয় রাইড
স্লীপার
হোটেলের ঘরে পরার জন্য একজোড়া চপ্পল নিতে ভুলবেন না যেন। সমুদ্রের ধারে বেড়াতে গেলেও এর জুড়ি মেলা ভার। সুন্দর সুন্দর চপ্পল পাওয়া যায় বাজারে।
ভাল জুতো
পাহাড়ে বেড়াতে গেলে ভাল জুতো অবশ্যই নেবেন। মোজা সহ স্নীকার পরে একসপ্তাহ আগে থেকে হাঁটা অভ্যেস করে রাখতে পারলে আরো ভাল। সাথে ব্যাথার মলম কিংবা স্প্রে নিতেও ভুলবেন না যেন।
রোদ চশমা
পাহাড়ে যান কিংবা সমদ্রে। গরম কিংবা বরফ যাই থাকুক, রোদ চশমা নেওয়া খুব জরুরি। ছবি তোলার সময়েও এর আবেদন অনস্বীকার্য।
ছাতা এবং টুপি
শুধুই রোদ চশমা নয় ছাতা এবং টুপিও রাখতে পারেন সাথে। রোদে যাদের মাথা ধরে যায় তারা এদুটি জিনিস কখনোই ভুলবেননা।
ওড়না বা স্কার্ফ
এছাড়া হাতের কাছে রেখে দেবেন একটি ওড়না বা স্কার্ফ। হঠাৎ করে ঠান্ডা লাগলে কান মাথা ঢেকে নিতে পারবেন।
মেমোরী কার্ড
এবার চলে আসি ছবি তোলার সরঞ্জামের কথায়। বেড়াতে যাওয়ার আগে অবশ্যই মেমোরী কার্ড খালি করে নেবেন। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কার্ডও রাখতে পারেন।
পাওয়ার ব্যাঙ্ক
ক্যামেরা কিংবা মুঠো ফোনের চার্জার নিতে ভুলবেননা। পাওয়ার ব্যাঙ্ক সাথে রাখলে রাস্তা-ঘাটে প্রয়োজনে চার্জ দিতে পারবেন। সুযোগ মতো পাওয়ার ব্যাঙ্ক ফুল চার্জ রাখবেন।
ইউনিভার্সাল এডাপ্টর
সাথে একটি ইউনিভার্সাল এডাপ্টর নিয়ে রাখতে পারেন। যদি কোনও প্লাগেই আপনার চার্জার না লাগানো যায় তখন কাজে লাগবে।
ট্রাইপড
যদি ভিডিও তোলার ইচ্ছে থাকে তবে ট্রাইপড কিংবা গিম্বাল নিয়ে নেবেন। যদি সেলফি বা গ্রুফি তুলতে ভালোবাসেন তাহলে সাথে রাখবেন একটি সেলফি স্টিক। এগুলো সত্যিই খুব কাজের জিনিস।
কলম ও নোটবুক
সাথে অতি অবশ্যই রাখবেন একটি কলম ও নোটবুক। প্রয়োজনীয় নম্বর অবশ্যই লিখে রাখবেন সেখানে। তাছাড়া আপনার যদি প্রতিদিনের ঘটনা লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছে থাকে তাতেও সুবিধে হবে।
কিন্ডল বা বই
যাত্রাকালে বই পড়ার অভ্যেস থাকলে সাথে একটা কিন্ডলও রাখতে পারেন আমার মতো। যদি পেপার ব্যাক সংস্করণ রাখতে চান তও রাখতে পারেন। চশমা থাকলে চশমার বাক্স এবং চশমা মোছার কাপড়ও সাথে রাখবেন।
টর্চ
সাথে রাখতে পারেন ছোট এল ই ডি লাইট কিংবা টর্চ। হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কাজে লাগে।
ক্লিপ ও ছোট ইলাস্টিক দড়ি
জামাকাপড় শুকোনোর জন্য ক্লিপ ও ছোট ইলাস্টিক দড়ি নিয়ে রাখবেন। যদি প্রয়োজনে জামা কাপড় কিংবা তোয়ালে শুকোতে হয় কাজে লাগবে।
টয়লেট কিট
পুরুষদের ক্ষেত্রে দাঁড়ি কমানোর ন্যূনতম সরঞ্জাম সাথে নেবেন। টয়লেট কিট আলাদাভাবে গুছিয়ে নেবেন অবশ্যই। দাঁত মাজার ব্রাশ-পেস্ট, চিরুণী অবশ্যই ভরে নেবেন।
সাজগোজের সরঞ্জাম
মহিলাদের ক্ষেত্রে সাজগোজের সরঞ্জামও প্রয়োজনমতো গুছিয়ে নেবেন। নচেৎ বেড়াতে গিয়ে সাজতে ইচ্ছে করলেও উপায় থাকবে না।
চেন ও কানের দুল
দামী গয়না পরে বেড়াতে না যাওয়াই সমীচীন। পরিবর্তে রকমারী চেন ও কানের দুল কয়েক সেট নিয়ে নিতে পারেন।
মশার তেল
জঙ্গল সাফারী করলে মশা মাছির কথা ভেবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাথে রাখবেন অবশ্যই।
ফার্স্ট এড বাক্স
খুব ছোট হলেও একটা ফার্স্ট এড বাক্স রাখবেন সাথে। তুলো ও এন্টি সেপ্টিক কোনো মলম সাথে রাখবেন। ব্যান্ডেড এবং ক্রেপ ব্যান্ডেজ রাখতে পারেন।
বালিশ-চাদর
বর্তমানে ট্রেনের বাতানুকূল কামরাতেও বালিশ-চাদর-কম্বল কিছুই দিচ্ছে না। সুতরাং নিজেদের জন্য সিঙ্গেল চাদর ও হাওয়া ভরা বালিশ সঙ্গে রাখবেন।
মাস্ক এবং স্যানিটাইজার
পরিশেষে বলি বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত পরিমানে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার সাথে রাখবেন। যানবাহনে কিংবা হোটেলে অবশ্যই ঘন ঘন হাত স্যানিটাইজ করে নেবেন। জলের সমস্যা না থাকলে তরল সাবানও ব্যবহার করতে পারেন।
অতি প্রয়োজনীয়
- টিকিট
- ফটোকপি সহ আই ডি কার্ড
- হোটেল বুকিংয়ের কাগজ
- এ টি এম কার্ড এবং টাকা পয়সা
- জরুরি ওষুধ
- কলম ও নোটবুক
- চার্জার সহ মোবাইল ফোন
তাহলে এবার নিশ্চিন্তে বেরিয়ে পড়ুন ভ্রমণে। যে কাগজে লিস্টটা বানিয়েছেন সেটা আবার ফেলে দেবেন না যেন। যদি আপনি একটু আনমনা হন তাহলে লিস্টটাও হাতের ব্যাগে নিয়ে নিন। ফেরার সময়ে সব জিনিস ঠিক মতো বাগে ভরেছেন কিনা একবার মিলিয়ে দেখে নিতে পারবেন।
আমাদের এই আর্টিকেলটি আপনাদেরকাজে লাগল কিনা অবশ্যই জানাবেন। আমাকে উৎসাহ দিতে রেটিংটাও দিয়ে দেবেন। কমেন্টে জানাবেন আর কী বিষয়ে আপনারা আর্টিকেল চান।
দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। হবি: সাঁতার কাটা, বই পড়া ও নিজের জীবনযাপন নিয়ে ব্লগ লেখা। সোশ্যাল মিডিয়াতে নিয়মিত মোটিভেশনাল ব্লগ লিখি। এছাড়া WordPress Developer হিসেবেও ফ্রিল্যান্স করি।এই ওয়েবসাইটটিও আমার নিজের তৈরী। নিচে আমার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের লিঙ্ক দেওয়া রইল, পড়ে দেখতে পারেন।

Very useful tips for travel abroad ……. I’ll must read about your travel experience whenever find time . Thank u