Table of Contents
ইকো পার্ক, কলকাতা
কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাট নিউ টাউনে অবস্থিত ইকো ট্যুরিজ্ম পার্ক বা সংক্ষেপে ইকো পার্কটি ভারতের বৃহত্তম আরবান পার্ক। এর অপর নাম প্রকৃতি তীর্থ। ১০৪ একর জলাভূমি সহ এই পার্কের আয়তন ৪৮০ একর। জলাভূমির মাঝে একটি দ্বীপও আছে যা ‘সবুজসাথী’ নামে পরিচিত।
ইকো পার্ক কত সালে তৈরি হয়
২০১২ সালের ২৯ শে ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা ব্যানার্জি এই পার্কটির উদ্বোধন করেন। ২০১৩ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে সর্বসাধারণের জন্য পার্কটি খুলে দেওয়া হয়।
ইকো পার্ক কীভাবে যাবেন
বাসে আসতে হলে উলটোডাঙ্গা, বাগুইহাটি, কলকাতা বিমানবন্দর, সল্টলেক কিম্বা চিংরিঘাটা থেকে বাস পেয়ে যাবেন।
অ্যাপ ক্যাব অথবা ট্যাক্সি করে অথবা নিজের গাড়িতেও চলে আসতে পারেন।
ইকো পার্ক কখন খোলা থাকে
গ্রীষ্মকালীন সময় (১লা মার্চ থেকে ৩১ শে অক্টোবর)
- মঙ্গলবার থেকে শনিবার দুপুর ২:৩০ থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত
- রবিবার ও ছুটির দিন দুপুর১২ টা থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত।
- সোমবার পার্কটি সম্পূর্ণ বন্ধ।
শীতকালীন সময় (১লা নভেম্বর থেকে ২৮ শে ফেব্রুয়ারী)
- মঙ্গলবার থেকে শনিবার দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৭:৩০ পর্যন্ত
- রবিবার ও ছুটির দিন দুপুর ১১ টা থেকে রাত ৭:৩০ পর্যন্ত।
- সোমবার পার্কটি সম্পূর্ণ বন্ধ।
ইকো পার্কে কত টাকার টিকিট লাগে
ইকো পার্কে ঢুকতে মাত্র ৩০ টাকার টিকিট লাগে। ভিতরে বিভিন্ন রাইডে চড়তে আলাদা টিকিট কাটতে হয়।
ইকো পার্কে কী কী দেখবেন
- ৪ নম্বর প্রবেশদ্বারের কাছে পাবেন পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের প্রতিকৃতি। এখানে আছে মিশরের গিজার পিরামিড, ব্রাজিলের ক্রাইস্ট দা রিদিমার, চিনের প্রাচীর, ভারতের তাজমহল, গিজার স্ফিনিক্স, জর্ডনের পেত্রা, ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার, রোমের কলসিয়াম, ইস্টার আইল্যান্ডের মোয়াই স্ট্যাচু
- গাছ-গাছালি দিয়ে ঘেরা বাঁধানো পথ একে বেঁকে চলে গেছে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে, বিস্তীর্ণ জলাশয়ের পাশে পাশে সবুজ গালিচার মত মাঠ, বসার জন্য কাঠের বেঞ্চ
- শান্তিনিকেতনের পরিবেশের আদলে তৈরি রবি অরণ্য
- সুসজ্জিত গোলাপ বাগান
- আফ্রিকার মুখোশ দিয়ে সাজানো মাস্ক গার্ডেন
- Butterfly Garden এ দেখতে পাবেন অসংখ্য প্রজাপতি
- Butterfly Garden এর পাশেই রয়েছে গলফ খেলার মাঠ যেখানে মূল্যের বিনিময়ে আপনিও অংশগ্রহণ করতে পারেন
- বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ গাছ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাঁশ বাগান
- বাচ্চাদের খেলার জন্য পার্কও আছে
- সন্ধ্যেবেলা গানের তালে তালে Musical Fountain শো অবশ্যই দেখবেন।
ইকো পার্কে কী কী করতে পারেন
- টয় ট্রেনে চড়ে ইকো পার্ক ঘুরে দেখতে পারেন। মূল্য ১৫০ টাকা (নন-এসি) এবং ২৫০ টাকা (এসি)। সময় ২৫ মিনিট।
- প্যাডেল বোট চড়তে পারেন। মূল্য ৫০ টাকা (৪ জন), সময় ৩০ মিনিট। ২ নম্বর গেট এর ভিতর থেকে ছাড়ে।
- সিকারা চড়ে ভ্রমণ করতে পারেন। মূল্য ১৫০ টাকা (৪ জন), সময় ৩০ মিনিট। ২ নম্বর গেট এর ভিতর থেকে ছাড়ে।
- রোয়িং করতে পারেন। মূল্য ১৫০ টাকা (১ জন), সময় ২০ মিনিট।
- স্পীড বোট চড়তে পারেন। মূল্য প্রতি রাউন্দ ৫০ টাকা (১ জন)।
- কায়াকিং ১৫০ টাকা। রবি অরণ্যের সামনে থেকে ছাড়ে।
- গেমিং জোনও আছে, কম্পিউটার গেম খেলতে পারেন। খরচ ঘণ্টা প্রতি ৫০ টাকা।
- তির-ধনুক ছোড়া (Archery) ও বন্দুক ছোড়ার (Gun Shooting)ব্যবস্থাও আছে মূল্যের বিনিময়ে।
ইকো পার্কে কতগুলো প্রবেশ দ্বার
ইকো পার্কে ৪ টি প্রবেশ দ্বার আছে। প্রতিটি দ্বারের সামনেই টিকিট কাটার সুবন্দোবস্ত রয়েছে।
ইকো পার্কে গাড়ি পার্ক করা যায়
ইকো পার্কের ১,৩ ও ৪ নম্বর প্রবেশ দ্বারের পাশেই গাড়ি পার্ক করে রাখা যায়।
গাড়ি পারকিং চার্জ
- ৪ চাকার গাড়ি ৫০ টাকা (১ ও ৪ নম্বর গেট)
- ২ চাকার গাড়ি ২০ টাকা (১ ও ৩ নম্বর গেট)
- বাস ১০০ টাকা (৪ নম্বর গেট)
ইকো পার্কে খাবারের ব্যবস্থা
ভিতরে বহু খাবারের দোকান রয়েছে। সবুজসাথি দ্বীপে ক্যাফে একান্তে নামে একটি রেস্তরাঁও আছে। এছাড়া বাড়ি থেকে বা বাইরে কোনও দোকানের খাবারও সাথে নিয়ে যেতে পারেন।
এছাড়া খাবার জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও আছে।
তাহলে আর ভাবনা কি… একদিন সপরিবারে কিম্বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরেই আসুন ইকো পার্ক। আপনাদের আর কিছু জানার থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন।
দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। হবি: সাঁতার কাটা, বই পড়া ও নিজের জীবনযাপন নিয়ে ব্লগ লেখা। সোশ্যাল মিডিয়াতে নিয়মিত মোটিভেশনাল ব্লগ লিখি। এছাড়া WordPress Developer হিসেবেও ফ্রিল্যান্স করি।এই ওয়েবসাইটটিও আমার নিজের তৈরী। নিচে আমার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের লিঙ্ক দেওয়া রইল, পড়ে দেখতে পারেন।

