You are currently viewing আপনি কি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চান: মেনে চলুন এই ৯ টি নিয়ম

আপনি কি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চান: মেনে চলুন এই ৯ টি নিয়ম

আপনি কি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চান

আপনি কি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চান! আমরা তো ছোট থেকেই শুনে আসছি স্বাস্থ্যই সম্পদ তাই না। কিন্তু সকলে যদি স্বাস্থ্য-সচেতন হয়ে ওঠে তাহলে রেস্টুরেন্টগুলোর চলবে কি করে আর ওষুধ কোম্পানিগুলোরই বা চলবে কি করে তাই না! আপনি বলতেই পারেন যে সকলের ব্যবসা ভালো চলুক আর আমরাও ভালো মন্দ খেয়ে তারপর না হয় ওষুধ টষুধ খেয়ে ঠিক চালিয়ে নেব।

দেখা যাবে আমরা অনেকেই হয়ত প্রায়শই চানাচুর-চপ-সিঙ্গারা-চিকেন রোল-বিরিয়ানী খেয়ে থাকি। তারপর শরীর খারাপ করলে ভাবেন ওষুধের কি আর অভাব আছে! তারপর আবার পাড়ায় পাড়ায় কত ওষুধের দোকান। আজকাল তো খাবারের মতো ওষুধও অনলাইনে কেনা যায়। কী ভালো না ব্যাপারটা!

কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে শরীরই বা কত সহ্য করবে বলুন তো। তারপর এমন কিছু একটা রোগ ধরা পড়ল হয়ত আপনার প্রিয় খাবারগুলো খাওয়া একেবারেই নিষেধ হয়ে গেল। তাই বাস্তবে আপনাকে একটু বুঝে শুনে চলতেই হবে।

অসুখের কোনও বয়স নেই

আজকাল কিন্তু আর হার্ট এট্যাকের নির্দিষ্ট কোনও বয়স লাগে না, ৩০ বছরের যুবক – যুবতীও হঠাৎই হার্ট ফেল করে মারা যাচ্ছেন। এছাড়া ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ তো আছেই। আজকাল ক্যান্সার মানেই মৃত্যু তা হয়ত নয়, তবে চিকিৎসার খরচের কথাটাও তো মাথায় রাখতেই হবে। আর কোভিড এসে তো আমাদের দেখিয়েই দিয়ে গেছে যে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা জরুরী। তাই বলি সময় থাকতে থাকতে সচেতন হতেই হবে।

চলো নিয়মমতে

অনেক রোগের ক্ষেত্রেই দেখবেন ডাক্তাররা বা ডায়েটিশিয়ানরা প্রথমে বলেন জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে। দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে কিন্তু সত্যিই কাজ হয়। যেমন আমার ফ্যাটি লিভার বা কোলেস্টেরল কমানোর জন্য কোনোদিনও ওষুধ খেতে হয়নি। আমি যে খুব স্বাস্থ্য সচেতন তেমনটা দাবী করছি না তবুও চেষ্টা করি যতটা সম্ভব সুস্থ থাকার। তাই কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলি। আমি যে সব নিয়মগুলো মেনে চলি সেগুলোই শেয়ার করছি আপনাদের সাথে।

সুস্বাস্থ্যের ৯ টি নিয়ম

দেখবেন ইন্টারনেটে  ৯ -১ রুল বলে কতগুলো নিয়ম খুব প্রচলিত। আপনিও এই নয়টি নিয়ম মেনে চলে দেখতে পারেন। আবার নিয়মগুলোকে একটু আধটু নিজের মতো করে সাজিয়েও নিতে পারেন। যেমন আমি সামান্য কিছু অদল বদল করে নিয়েছি।

৯ নম্বর নিয়ম

শুরুতেই আছে ৯০০০ পা হাঁটার কথা। ও আমার দ্বারা হবে না তাই বলে কি পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেব। না, আমি ওটাকে ছেঁটে আপাতত ৭০০০ পা করেছি আর বাস্তবে হয়ত ৩০০০ পা হাঁটতেই অবস্থা কাহিল। তবে প্রতিদিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহে তিনদিন অন্তত চেষ্টা করি ৭০০০ পা হাঁটতে। আপনিও শুরুতে তাইই করুন। আপনার মোবাইলের প্লে স্টোর থেকে একটা হেল্থ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিন। তারপর সেটার সাহায্যে আপনার হাঁটা নজরবন্দী করে রাখতে পারবেন।

৮  নম্বর নিয়ম

এই ৮ নম্বর নিয়ম অনুসারে আপনাকে দিনে অন্তত ৮  গ্লাস জল পান করতে হবে। এটা অবশ্য মেনে নিতে আমার খুব একটা অসুবিধে হয়না, শুধু একটু মনে রাখতে হয়। তবে যেহেতু ঘুম থেকে উঠেই জল খাওয়া শুরু করি তাই ৮ গ্লাস হয়েই যায়। আপনিও প্রতিদিন ৮ গ্লাস জল পান করে দেখুন গ্যাস অম্বলের সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে। তাছাড়া চুল ও ত্বকও অনেক ভালো থাকবে।

৭ নম্বর নিয়ম

৭ নম্বর নিয়মটা হল আপনাকে রাতে ৭ ঘন্টা ভালো করে ঘুমোতে হবে। ৭ ঘন্টা ঘুমোনো আমার পক্ষে অসম্ভব। তবে ছ’ঘন্টা ঘুমোনোর চেষ্টা করি যদি না ছেলে-মেয়ে মাঝরাতে উঠে বসে। তবে আপনারা চেষ্টা করবেন ৭ ঘন্টা ঘুমোতে, তাহলে মস্তিস্ক এবং হার্ট ভালো থাকে। এটুকু অন্তত চেষ্টা করবেন প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমোতে এবং একই সময়ে উঠতে। আর ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই ফোন হাতে নেবেন না।

৬ নম্বর নিয়ম

৬ নম্বর নিয়মানুসারে প্রতিদিন ৬ মিনিট মেডিটেশন করতে হবে। আমি ৬ মিনিটের মেডিটেশন থেকে ১ মিনিট কমিয়ে দিয়ে ৫ মিনিট করে নিয়েছি। এই কাজটা আমি প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই সেরে নিতে চেষ্টা করি। এই ৫ -৬ মিনিট মেডিটেশন করলে মনটা সত্যিই বেশ শান্ত থাকে।

৫ নম্বর নিয়ম

এরপর এই ৫ নম্বর নিয়মে বলা আছে সারাদিনে আছে ফল আর শাকসব্জি মিলিয়ে ৫ রকম খাওয়ার কথা। আমি পাঁচমিশালি তরকারী খাই আর একটা যেকোনো ফল খাওয়ার চেষ্টা করি। প্রতিদিন যদি আপনি এরকম খাওয়া দাওয়া করেন তবে আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অবশ্যই বেড়ে যাবে। তার বদলে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যেস থাকলে সপ্তাহে একদিনের বেশি একদমই নয়।

ছোট শিশুর মায়ের যত্ন

পড়ে দেখুন বাড়িতে  ছোট শিশু থাকলেও মা কীভাবে নিজের যত্ন নেবে  

৪ নম্বর নিয়ম

এই ৪  নম্বর নিয়মানুসারে সারাদিনে কাজের মাঝে মাঝে ৪ বার ছোটো ছোটো ব্রেক নেওয়ার কথা। এই ব্রেকের মূল উদ্দেশ্য হলো কাজের মাঝে ব্রেকের সময়ে আপনি স্ট্রেচিং করবেন, একটু ঘরের কাজও সেরে নিতে পারেন টুক করে কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া একদম নয়। যদি ফোন হাতে নেন তাহলে কিন্তু কাজের মধ্যে ফিরতে আপনার অনেক সময় লেগে যাবে।

৩ নম্বর নিয়ম

৩ নম্বর নিয়ম হল সারাদিনে অন্ততঃ ৩ বার স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।ব্রেকফাস্ট কখনই বাদ দেবেন না।সারারাতের পর সকালেও ঠিকমতো না খেলে দেখবেন শরীর দুর্বল লাগছে। লাঞ্চ এবং ডিনারও অবশ্যই সময়মতো করবেন। বাকি সময়ে টুকটাক। এই ধরুন ব্রেকফাস্ট আর লাঞ্চের মাঝে একটা ফল আবার বিকেলের দিকে একমুঠ ছোলা সেদ্ধ।

২ নম্বর নিয়ম

এবার আসি ২ নম্বর নিয়মে । এখানে বলেছে রাত্রে ডিনার খাওয়া আর ঘুমোতে যাওয়ার মাঝে অন্ততঃ দু’ঘণ্টার গ্যাপ রাখতে। এইটা মেনে চলা আমার পক্ষে সবচেয়ে সোজা। যেহেতু আমি চিরকালই ৮টার মধ্যে ডিনার সেরে নিই আর ১০টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি। আপনারাও চেষ্টা করবেন ডিনারটা একটু তাড়াতাড়ি সেরে নিতে। খেয়ে নিয়ে সাথে সাথে ঘুমোতে গেলে কিন্তু হজমের সমস্যা বাড়ে। আর রাতে যতটা সম্ভব হাল্কা খাবার খেতে চেষ্টা করবেন।

১  নম্বর নিয়ম

এই ১ নম্বর নিয়ম বলছে সারাদিনে অন্তত ৩০ মিনিট কোনও একটা এক্সারসাইজ করতে। আপনি সময় থাকলে জিমে যেতে পারেন কিংবা সাঁতার শিখতে পারেন। যেমন আমি রেগুলার সাঁতার কাটি বা হাঁটি। ইচ্ছে হলে আপনি এরোবিক্স অথবা নাচেও ভর্তি হতে পারেন।

এইবার আসল কথাটা হলো এতসব করে কী লাভ হয়। সত্যি কথা বলতে আপনি যদি টাইম ম্যানেজ করে প্রতিটা নিয়ম মেনে চলতে পারেন দেখবেন শরীর এবং মন দুই-ই ভালো থাকবে।

বোনাস টিপস

প্রতিদিন জার্নাল লেখার চেষ্টা করবেন। জার্নালে থাকবে আপনি জীবনে কী কী পেয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতার কথা। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি- সেই সব কথা। আপনারা চাইলে আমি এই বিষয়ে একটা বিস্তারিত ব্লগ লিখে দেব।

যাই হোক আমার গল্পতো অনেক হল, এবার শুনব আপনাদের কথা। আপনারা নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য কী কী করেন?


এছাড়া আপনাদের আর কোনও প্রশ্ন থাকলে আমার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামেও সরাসরি মেসেজ করতে পারেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব উত্তর দেওয়ার। 

আমার সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক

ফেসবুক

ইনস্টাগ্রাম

ইউটিউব চ্যানেল

Rate this post

Discover more from Debanjana Roy-Motherhood Journey

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Debanjana Roy

আমি দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। আমি ঘুরে বেড়াতে, বই পড়তে এবং সাঁতার কাটতে খুব ভালোবাসি। আর ভালোবাসি নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে। এখানে আমার দুই সন্তানকে বড় করে তোলার নানান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব আপনাদের সাথে। পড়ুন টুইন বেবি জার্নাল

Leave a Reply