You are currently viewing দার্জিলিং টয় ট্রেন জয় রাইড । Darjeeling Toy Train Joy Ride

দার্জিলিং টয় ট্রেন জয় রাইড । Darjeeling Toy Train Joy Ride

দার্জিলিং টয় ট্রেন

আপনি কি দার্জিলিং যাওয়ার কথা ভাবছেন? ভাবছেন টয় ট্রেনে চড়বেন? কিন্তু জানেন না কীভাবে আগাম বুকিং করবেন! সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি আপনাদের জানাচ্ছি দার্জিলিং টয় ট্রেন সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য।

এই রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ৮৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ মাত্র ২ফিট (ন্যারো গেজ)। এই টয় ট্রেন প্রতিদিন ৩২৮ফুট উচ্চতায় অবস্থিত নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় যাত্রা শুরু করে ৭২১৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত দার্জিলিং শহরে পৌঁছে দিত যাত্রীদের।

Batasia Loop
Batasia Loop

দার্জিলিং টয় ট্রেন জয়রাইড কি ?

সাম্প্রতিককালে কোভিড পরিস্থিতিতে এই টয় ট্রেনের শুধুমাত্র জয়রাইড অংশটি চালু আছে। বর্তমানে টয় ট্রেন দার্জিলিং থেকে ঘুম নিয়ে যায়, ঘুম রেলওয়ে মিউজিয়াম ঘুরে দেখার জন্য আধঘন্টা সময় দেওয়া হয়। যাত্রীদের দার্জিলিং স্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাত্রার মোট সময় প্রায় ২ ঘন্টা। মাঝখানে বাতাসিয়া লুপে ১০ মিনিটের জন্য যাত্রীদের নামতে দেওয়া হয়। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা।

দার্জিলিং এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

হিমালয়ের পাদদেশে ৬৭০০ফুট উচ্চতায় অবস্থিত দার্জিলিং ছিল সিকিম রাজত্বের শাসনাধীন। ব্রিটিশ রাজ ১৮২৮ সালে দার্জিলিংকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অসুস্থ সৈন্যদের ভগ্নস্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের স্থান হিসেবে মনোনীত করেন। ১৮৩৫ সালে তৈরী করা হয় স্যানাটোরিয়াম বা হাসপাতাল। গড়ে ওঠে মনাস্ট্রি। তখনও পর্যন্ত জনসংখ্যা মাত্র ১০০জন। বাসস্থান মাত্র ২০টি।

সড়কপথ

১৮৩৯ সাল নাগাদ সুপরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা হয় দার্জিলিং শৈল শহরটি। শিলিগুড়ি থেকে পাঙ্খাবাড়ি ও কার্শিয়ং হয়ে দার্জিলিং আসার সড়কপথ তৈরী করা হয়। সে পথের যানবাহন বলতে ঘোড়া কিংবা ঘোড়ায় টানা গাড়ি বা কার্ট। যে পথ ধরে এই কার্ট চলাচল করত সেই পথই বর্তমানের হিল-কার্ট রোড নামে পরিচিত।

দার্জিলিং পৌরসভা

১৮৪৮ সালে তৈরী হয় ব্রিটিশ সৈন্য ঘাঁটি। এরপর ১৮৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হল দার্জিলিং পৌরসভা। ১৮৫৬ সাল নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হলে ব্রিটিশ প্লান্টার্সরা স্থায়ী বসতি স্থাপন করলেন সেখানে। ধীরে ধীরে শিক্ষার প্রসারের জন্য স্কটিশ মিশনারীদের উদ্যোগে স্থাপিত হল বিভিন্ন মিশনারী স্কুল ও ওয়েলফেয়ার সেন্টার।

মনোরম আবহাওয়ার কারণে ১৮৬৪ সালে তৎকালীন বাংলা প্রদেশের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পেল এই দার্জিলিং।

দার্জিলিং টয় ট্রেনের সূচনা

১৮৬০ সাল থেকেই দার্জিলিং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি শহর।

তখন ১৮৭৮ সাল। কলকাতার সাথে মিটার গেজ রেল পথে যুক্ত হল শিলিগুড়ি। আর শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যেতে ভরসা ঘোড়ায় টানা গাড়ি। সেই সময়ে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের এজেন্ট ফ্রাঙ্কলিন প্রেস্টিজ দার্জিলিংকে সমতলের সাথে যুক্ত করার জন্য বাষ্পচালিত রেলপথের প্রস্তাব দেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনের খরচ কমানো।

দার্জিলিং টয় ট্রেন:প্রথম ধাপ

বাংলার তদানীন্তন লেফ্টেন্যান্ট গভর্ণর স্যার এসলে ইডেন পর্যালোচনা করে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন। ১৮৭৯ সাল নাগাদ Gillanders, Arbuthnot & Company র তদারকিতে বাষ্পচালিত রেলপথের কাজ শুরু হল। প্রথম ধাপে শিলিগুড়ি থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার রেল লাইন পাতা হল। ট্রেন চলাচল শুরু হল। ভারতের প্রথম ভাইসরয় ‘লর্ড লিটন’ ১৮৮০ সালের মার্চ মাসে সস্ত্রীক সেই রেলপথের উদ্বোধন করলেন।

দার্জিলিং টয় ট্রেন:দ্বিতীয় ধাপ

এরপর ওই বছরই ২৩শে আগষ্ট কার্শিয়ং পর্যন্ত আরও ২১ কিলোমিটার রেল পথের কাজ সুসম্পন্ন হল।

দার্জিলিং টয় ট্রেন:তৃতীয় ধাপ

পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে সোনাদা এবং জুলাই মাসে দার্জিলিং পর্যন্ত রেলপথের কাজ শেষ করা হল। পরিচালন কমিটির নামকরণ করা হল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কোম্পানী। সদর দপ্তর হল কার্শিয়ং (এলিসিয়া প্লেস )।

পর্যায়ক্রমে ১৮৮২ সালে শুকনা ও গয়াবাড়ি স্টেশনের মাঝে ৪টি লুপ ও ৪টি জিগ-জ্যাগ পথ তৈরী করা হল খাঁড়া পথের গ্রেডিয়েন্ট কমানোর উদ্দেশ্যে। ১৯১৯ সালে তৈরী হল বাতাসিয়া লুপ, উদ্দেশ্য দার্জিলিং পর্যন্ত সুউচ্চ পথের সরলীকরণ করা।

দার্জিলিং

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন

পরবর্তীকালে ১৯৬২ সালে তৈরী করা হল নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। চালু হল ব্রড-গেজ রেলপথ। শিলিগুড়ি থেকে লোকোমোটিভ শেড ও ডিপো স্থানান্তরিত হল ৬ কিলোমিটার দূরবর্তী নতুন স্টেশনে। ইতোমধ্যে ১৯৫১ সালে ভারত সরকার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) কিনে নেয় এবং North-East Frontier Railway র অন্তর্ভুক্ত করে।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট

১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর ইউনেস্কো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের সম্মানে ভূষিত করেছে।

টয় ট্রেন বুক করবেন কীভাবে

বর্তমানে ডিজেল চালিত এবং বাষ্পচালিত দু ধরণের ট্রেনই চালানো হয়। মাথাপিছু ভাড়া যথাক্রমে ১০০০ টাকা এবং ১৫০০/১৬০০ টাকা। পর্যটকদের ভিড়ের কারণে স্টেশনে পৌঁছে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। সুতরাং আপনাকে আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট কেটে রাখতে হবে।

IRCTC app/ www.irctc.in এ লগইন করতে হবে। তারপর from DJ to DJRZ fillup করবেন। অনলাইন পেমেন্ট করে টিকিট ডাউনলোড করে নেবেন। প্রিন্ট না করলেও চলবে। যথাসময়ে ফোন থেকে দেখালেও চলবে।

তাহলে আর দেরী কিসের ! দার্জিলিং ঘুরে আসুন। আর কোনও তথ্য জানতে হলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। তথ্যে কোনও ভুল থাকলে সেটাও জানাতে ভুলবেননা।

 

4.1/5 - (8 votes)

Discover more from Debanjana Roy-Motherhood Journey

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Debanjana Roy

আমি দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। আমি ঘুরে বেড়াতে, বই পড়তে এবং সাঁতার কাটতে খুব ভালোবাসি। আর ভালোবাসি নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে। এখানে আমার দুই সন্তানকে বড় করে তোলার নানান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব আপনাদের সাথে। পড়ুন টুইন বেবি জার্নাল

Leave a Reply