You are currently viewing ভালো থাকার পাসওয়ার্ড

ভালো থাকার পাসওয়ার্ড

ভালো থাকার সত্যিই কি কোনও পাসওয়ার্ড হয়! হ্যাঁ হয়, তবে সেই পাসওয়ার্ড কেউ কাউকে বলে দিতে পারে না প্রত্যেককে নিজে নিজেই সেট করতে হয় সেই পাসওয়ার্ড। কীভাবে সেট করবেন?

প্রথমে খুঁজে দেখতে হবে আপনার কী কী কাজ করতে ভালো লাগে।সেই কাজ গুলোর একটা তালিকা বানিয়ে ফেলুন। তারপর সারাদিনের একটা রুটিন তৈরী করুন। তাহলেই দেখতে পাবেন আপনার হাতে কিছু ফ্রি টাইম থাকে যখন আপনি সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করে কিংবা আলস্য করে কাটিয়ে দেন। সেই সময়গুলোকে যদি কোনো সৃজনশীল কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আর কখনই মন খারাপ বা ডিপ্রেশন আপনার জীবনকে স্পর্শ করতে পারবে না।

তারপরেও যদি দেখেন আপনার কিছুই ভালো লাগছে না এবং সেই ভালো না লাগাটা বেশ কিছুদিন ধরে চলছে তাহলে অবশ্যই প্রফেশনাল হেল্প নেবেন।

আসুন দেখে নিই আমরা মহিলারা কী কী ভাবে নিজেদের ভালো লাগার পাসওয়ার্ড সেট করতে পারি…

১. নিজের জন্য সময়: 

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই সংসারের কাজ শুরু করে দেবেন না। অন্তত ১০ মিনিট সময় রাখার চেষ্টা করুন নিজের জন্য। ঘুম থেকে উঠে চোখে মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন, তারপর এক গ্লাস হালকা গরম জল পান করুন। ইচ্ছে হলে তার মধ্যে এক টুকরো পাতি লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন, সাথে একটু মধুও মেশাতে পারেন।

২। ব্যায়াম করুন: 

ঘুম ঘুম ভাবটা পুরোপুরি কাটাতে এরপর হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন। তারপর একমনে ৫ মিনিট প্রাণায়াম করতে পারেন। দেখবেন ঘুমের জড়তা একদম কেটে যাবে। ইচ্ছে হলে কোনও যন্ত্র সঙ্গীতও চালিয়ে রাখতে পারেন আস্তে করে। 

৩। কোনও সৃষ্টিশীল কাজ:

আপনিও যদি আমার মতো অনেকটা ভোরে ওঠেন তাহলে আপনার হাতেও বেশ কিছুটা সময় থাকবে। এই সময়টা কোনও বই পড়তে পারেন। বই পড়ার অভ্যেস না থাকলে নতুন করেও শুরু করতে পারেন। প্রথম প্রথম না হয় দু’পাতাই পড়লেন। দেখবেন এভাবেই ধীরে ধীরে বইটা পড়া শেষ হয়ে গেছে। লেখালিখি করতে পারেন কিংবা ছবিও আকঁতে পারেন। তবে এই সময়টায় ভুলেও ফোন হাতে নেবেন না। তাহলেই সময়টা ফুড়ুৎ করে পালিয়ে যাবে। আর আপনাকে একরাশ বিরক্তি নিয়ে সংসারের কাজে যুক্ত হয়ে যেতে হবে। 

৪। সারাদিনের কাজের লিস্ট বানান 

সারাদিনে আপনাকে কী কী কাজ করতে হবে প্রথমেই তার একটা লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। একেই বলে টু-ডু-লিস্ট। এবার তার মধ্যে কোন কাজটা খুব জরুরী সেটা টিক দিয়ে ফেলুন। এবার কোন কাজটা একটু কম জরুরী সেটা আলাদা করুন। তারপর বাছুন কোন কাজটা দু’দিন বাদে করলেও চলবে। তাহলে সারাদিনে আপনি সেই ভাবে কাজ এগোতে পারবেন আর সারাদিনে কী কী কাজ বাদ পড়ল তাই নিয়ে দুশ্চিন্তাও করতে হবে না।

৫। বাড়ির পরিচারিকার কাজের নির্দেশিকা:

আপনাকে যদি চাকরী বা অন্য কোনো কাজে নিয়মিত বাইরে বেরোতে হয় তাহলে অবশ্যই বাড়ির রান্নার দিদি বা পরিচারিকার কাজের নির্দেশিকা বানিয়ে রেখে যাবেন। তাহলে তাঁদেরও কাজে সুবিধে হবে। বাড়ি ফিরে শেষ না হওয়া কাজের দায়িত্বও  আপনার কাঁধে এসে পড়বে না আর আপনারও বিরক্ত লাগবে না। দিনশেষে আপনিও নিজের প্রয়োজনীয় কাজে মন দিতে পারবেন। 

সাঁতার: আমার অভিজ্ঞতা

পড়ুন  আমার  সাঁতারের  অভিজ্ঞতা 

৬। আপনার দৈনন্দিন রুটিন 

এবার নিজের জন্যও সারাদিনের একটা রুটিন বানিয়ে রাখতে পারেন।সেই রুটিনে শুধুই কাজের কথা থাকবে না। বরং থাকবে আপনার বিশ্রামের নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ, আপনার ফোন করার জন্যও নির্দিষ্ট সময়ের কথা এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনি দিনে কতটা সময় ব্যয় করবেন তার উল্লেখ। আপনি এই রুটিনটা কতটা মানতে সক্ষম হচ্ছেন সেই বিষয়টা একটু খেয়াল রাখতে হবে।

প্রথম প্রথম হয়ত একটু অসুবিধে হবে কিন্তু মাত্র তিন সপ্তাহ মেনে দেখুন আপনার নিজেরই বেশ ভালো লাগবে। যদি মানতে খুব অসুবিধে হয় তাহলে কিছু রদ বদল করে নেবেন। আসলে সেই স্কুলবেলার মতো সারাজীবনই আমাদের একটা রুটিনের প্রয়োজন পরে। নাহলে কিছু না কিছু একটা মিস হয়ে যায়, তারপর দিনের শেষে মনটা খারাপ হয়ে যায়।

৭। প্রিয়জনদের খবর 

নিয়ম করে বাবা – মায়ের খোঁজ নেবেন, আবার সন্তান বড় হয়ে গেলেও রোজ তাদের সাথে গল্প করবেন। সম্ভব হলে রাতের খাওয়াটা বাড়ির সকলে মিলে একসাথে বসে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। সবার সারাটা দিন কেমন কাটল জিগ্যেস করবেন। আর সেই সময়ে কেউই টিভি বা ফোন ব্যবহার না করার চেষ্টা করবেন। এই খোঁজ খবর নেওয়ার মধ্যে দিয়েই কত সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। পরিবারের সকলের প্রতি সকলের নির্ভরতা বাড়ে।  

৮। ভালো বন্ধুর সাথে আড্ডা 

স্কুলের কোনও না কোনও বন্ধুর সাথে আপনার যোগাযোগ আছে নিশ্চয়ই। তার কাছে হয়ত আপনি মন খুলে কথা বলতে পারেন আর সেও আপনার কথা মন দিয়ে শোনে, আপনাকে আঘাত করে না বরং ভুল করলে শুধরে দেয়।

সপ্তাহে একদিন অন্তত এরকম কোনও ভালো বন্ধুর সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেবার চেষ্টা করবেন। দেখা করতেই হবে তা নয় ফোনেও কথা বলতে পারেন। দু’জনে দু’জনের কথা মন দিয়ে শুনলে দেখবেন মনটা বেশ হালকা লাগবে।

৯। হাসবেন্ডের সাথে আড্ডা 

সারা সপ্তাহে কাজের চাপে ভালো করে কথাই বলা হয় না। তাহলে সপ্তাহে একটা দিন অন্তত নির্দিষ্ট করে রাখার চেষ্টা করুন যেদিন হাসবেন্ডের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেবেন। পুরোনো স্মৃতি, সংসারের খুঁটিনাটি, খারাপ লাগা-ভালো লাগা সব নিয়েই চলুক প্রাণখোলা আড্ডা।

বাড়িতে নাহলে সেই পুরোনো দিনের মতো কোনও ক্যাফেতে কিংবা শপিং মলের সিঁড়িতে বসেও দু’জনে আড্ডা দিতে পারেন। দেখবেন দু’জনের মধ্যে আবার সেই পুরোনো বন্ধুত্ব ফিরে আসবে।

১০। বেড়াতে যাওয়া 

দীর্ঘদিন একই পরিবেশে থাকতে থাকতে মানুষের জীবনটা বড্ড একঘেয়ে হয়ে ওঠে তাই না! বছরে একবার অন্তত সপরিবারে চার – পাঁচদিনের জন্য কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন। আর মাঝে মাঝে যদি দু – একদিনের জন্য কাছে পিঠে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন তাহলেও মন ভালো থাকবে। বেড়াতে গিয়ে অযথা ফোনে সময় কাটাবেন না কিন্তু। সকলে মিলে হৈ হৈ করে ক’টা দিন কাটিয়ে আসবেন। 

সবশেষে বলি নিজের শরীরের ও মনের যত্ন নেবেন নিয়মিত। নিয়মিত রুটিন চেক আপ করাবেন, আবার নিয়মিত ত্বক ও চুলের যত্নও নেবেন। ইচ্ছে হলে পার্লারে যাবেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা কোনও শরীরচর্চা করার চেষ্টা করবেন।

আমার কথাতো হলো। এবার আপনি আপনার ভালো থাকার পাসওয়ার্ড কীভাবে সেট করেন তা আমাকে কমেন্টে জানাতে পারেন। 


এছাড়া আপনাদের আর কোনও প্রশ্ন থাকলে আমার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামেও সরাসরি মেসেজ করতে পারেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব উত্তর দেওয়ার। 

আমার সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক

ফেসবুক

ইনস্টাগ্রাম

ইউটিউব চ্যানেল

 

Rate this post

Discover more from Debanjana Roy-Motherhood Journey

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Debanjana Roy

আমি দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। আমি ঘুরে বেড়াতে, বই পড়তে এবং সাঁতার কাটতে খুব ভালোবাসি। আর ভালোবাসি নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে। এখানে আমার দুই সন্তানকে বড় করে তোলার নানান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব আপনাদের সাথে। পড়ুন টুইন বেবি জার্নাল

Leave a Reply