You are currently viewing ছোট শিশুর মায়ের যত্ন: নিজেকে ভালো রাখার ১০ টি টিপস

ছোট শিশুর মায়ের যত্ন: নিজেকে ভালো রাখার ১০ টি টিপস

ছোট শিশুর মায়ের যত্ন: নিজেকে ভালো রাখার ১০ টি টিপস

ছোট শিশুর মায়ের যত্ন: নিজেকে ভালো রাখার ১০ টি টিপস

আপনি কি একটি বা দুটি ছোট শিশুর মা! শিশুটিকে সামলাতে গিয়ে নিজের যত্ন নিতে একেবারে ভুলে গেছেন! তারপর দিনের শেষে নিজেকে আয়নায় দেখে ডিপ্রেশনে ভুগছেন। তাহলে আপনার জন্য রইল ১০টি অসাধারণ টিপস যেগুলো মেনে চললে আপনার শরীর ও মন ভালো থাকবে।

সবসময়ে মনে রাখবেন একজন ছোট শিশুর মায়ের নিজের যত্ন নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আপনি ভালো থাকলে তবেই আপনার সন্তানও ভালো থাকবে। আপনার শরীর বা মন খারাপ থাকলে তার প্রভাব পড়বে আপনার শিশুর যত্নের উপর। নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয়তা! তাই সবার আগে নিজেকে সুস্থ থাকতে হবে।

এখানে আমি ১০টি সহজ উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি —

১. নিজের জন্য সময় বের করুন 

মায়ের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি একথা ঠিক, কিন্তু তার মানে এই নয় যে মায়ের নিজের জন্য একটুও সময় থাকবে না। আমি বলি, আপনারা প্রতিদিন অন্তত ১৫-৩০ মিনিট সময় নিজের জন্য রাখুন। বাচ্চার বাবাকে বা অন্য কোনও সদস্যকে এই সময়টা বাচ্চার সাথে কাটাতে বলুন। ভাবছেন, এই সময়টা কীভাবে বের করবেন? সকালে আপনি যখন ঘুম থেকে ওঠেন তার থেকে একটু আগে উঠে পড়ুন। সাথে সাথে ঘরের কাজ শুরু না করে নিজের জন্য সময়টা রাখুন।

এবার এই সময়টা একদম নিজের সঙ্গে কাটান— বই পড়তে ভালোবাসলে বই পড়ুন, গান শুনতে ইচ্ছে হলে পছন্দের কোনও গান শুনুন, কিংবা সুন্দর একটা কাপে এক কাপ চা বা কফি নিয়ে শান্তভাবে বসুন। সম্ভব হলে ছাদে বা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ান।

২. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোনোর চেষ্টা করুন 

শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে মায়েদের ঘুমের ঘাটতি হয়। ফলে চোখের তলায় কালি পরে আর মেজাজটাও খিটখিটে হয়ে যায়। তাই বলি কি কখনও সুযোগ পেলেই একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে দিনের বেলা শিশু যখন ঘুমোয় তখন ওর পাশে শুয়ে একটু বিশ্রাম নিন। আর হ্যাঁ, এই সময়ে অযথা মোবাইল ঘাঁটবেননা, তাহলে কিন্তু ঘুমের দফারফা।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোনোর জন্য রাত্রেবেলা একটু তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ার অভ্যেস করতে হবে। তার জন্য ডিনারটাও একটু তাড়াতাড়ি করতে হবে। বাচ্চাকেও তাড়াতাড়ি খাইয়ে বিছানায় নিয়ে যেতে হবে। কিছুদিন একই রুটিন মেনে চললে দেখবেন ঠিক অভ্যেস হয়ে যাবে। সারাদিনে অন্তত ৭ ঘন্টা ঘুমোনোর চেষ্টা করবেন। রাত্রে একটানা ঘুমোনো সম্ভব নাহলে দিনে কোনো সময়ে একটু (আধঘন্টা) ঘুমিয়ে নিতে চেষ্টা করবেন।

৩. তিনবেলা পুষ্টিকর খাবার খান

একটি বা দুটি বাচ্চা সামলে ঘর সংসার সামলাতে মায়েদের প্রচুর এনার্জির প্রয়োজন হয়। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে অন্তত তিনবেলা পুষ্টিকর খাবার খান। খাবারে যেন প্রয়োজনমতো প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন, যাতে শরীরের শক্তি বজায় থাকে। প্রেসার-সুগার হঠাৎ করে খুব কমে গেলেও কিন্তু বিপদ।

দরকার হলে কোনও ডায়েটিশিয়ানের সাথে কথা বলে একটা ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিতে পারেন। চেষ্টা করবেন সময়মতো ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ আর ডিনারটা করতে। কীভাবে! ধরুন বাচ্চার সাথেই খেতে বসে গেলেন অথবা নিজে চট করে খেয়ে নিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে বসালেন। নয়ত বাচ্চার খাওয়া শেষ হলে কাউকে একটু ধরতে বলে আপনিও খেয়ে নিলেন।

আর অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে (৮ গ্লাস) জল পান করবেন। চেষ্টা করবেন জাঙ্ক ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে।মাসে এক থেকে দুই দিন খেতেই পারেন কিন্তু এর বেশি নয়। মনে রাখবেন নিজেকে সুস্থ রাখার দায়িত্বটা কিন্তু আপনারই। তাই খাওয়া-দাওয়ার  ব্যাপারে একদম সচেতন থাকবেন।

৪. বাড়ির সদস্যদের সাহায্য নেবেন 

ছোট বাচ্চা সামলে ঘরে বাইরে সব কাজ একা করার চেষ্টা করবেন না। এই সময়ে আপনার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বাচ্চার যত্ন নেওয়া এবং নিজের খেয়াল রাখা। তাই সংসারের বাকি সব কাজ থেকে একটু ছুটি নিন।কারও কোনো অভিযোগ নিয়ে একদম মাথা ঘামাবেন না। আপনার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব সেটুকুই করুন ।

বাচ্চার বাবা বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাহায্য নিন। বাড়িতে আর কেউ দেখার না থাকলে প্রয়োজন হলে হেল্পার বা বেবিসিটারের সাহায্য নিন। ঘরটা না হয় একটু অগোছালোই থাকল কি আর এমন ক্ষতি হবে! নাহয় একদিন দু’পদেই খাওয়া সারলেন। কিন্তু আপনি একাই সবদিক দেখতে গেলে নিজের যত্নটাই নেওয়া হবে না।

৫. শরীরচর্চা করুন

প্রেগন্যান্সির সময় থেকে অনেকেরই শরীর খুব ভারী হয়ে যায়। ধীরে ধীরে ব্লাড প্রেশার, সুগার, কোলেস্টেরল এসবও বাড়তে থাকে। সময়মতো ওজন নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে ভবিষ্যতে আপনিই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাই শিশুর যত্নের পাশাপাশি নিজের ফিটনেসেরও যত্ন নিন। সময় বের করে একটু হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করুন। এর ফলে শরীর ও মন দুইই ভালো থাকবে।

ভোরবেলা বা বিকেলবেলা একটু সময় বের করে অবশ্যই শরীরচর্চা করবেন। বাচ্চাকে নিয়েই একটু হেঁটে আসুন নাহয়। বাছা যদি স্কুলে যায়, তাহলে ওই সময়ে একটু হেঁটে নিন।

২০ কেজি ওজন কমিয়েছি
২০ কেজি ওজন কমিয়েছি

এই প্রসঙ্গে  বলে রাখি  প্রেগনেন্সিতে আমার ওজন বেড়েছিল ২৫ কেজি। আমি এক বছরের মধ্যে ২০ কেজি ওজন  কমিয়ে ফেলেছিলাম । 

৬. অপরাধবোধে ভুগবেন না 

আপনাকে মা হিসেবে সবসময় নিখুঁত হতে হবে— ভুলেও এই মানসিক চাপ নেবেন না। আপনি প্রথমবার মা হয়েছেন । আপনারও কাজে ভুল হতেই পারে। তখন নিজেকে দোষারোপ না করে ভুল থেকে শেখার চেষ্টা করুন। পরবর্তীকালে যাতে আবার একই ভুল না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকুন। জানবেন আপনার থেকে আপনার বাচ্চাকে আর কেউ বেশি ভালোবাসতে পারে না। তাই অন্য কেউ দোষারোপ করলে সে কথা একদম মনে নেবেন না।

মনে রাখবেন, প্রতিটা বাচ্চাই আলাদা। তাই তার খাওয়া – ঘুম কিংবা অসুখ – বিসুখ সবই আলাদা। সেক্ষেত্রে আপনারও বাচ্চাকে বুঝতে একটু সময় লাগবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই না! তাই আপনার কোনও ভুল হলে অপরাধবোধে ভুগবেন না। দরকার হলে একটা খাতায় সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান লিখে রাখুন, যাতে আবারও একই ভুল না হয়ে যায়।

৭. মনের যত্ন নিন

মানুষের যেমন শরীর খারাপ হয়, তেমনই মনও খারাপ হয়। তাই শরীরের মতো মনেরও যত্ন নিতে হয়। কখনো যদি খুব ক্লান্ত লাগে বা হতাশ লাগে, প্রথমে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখুন। যদি সম্ভব না হয় তবে নিয়মিত ডায়েরি লিখে দেখুন মন ভালো হয় কিনা। যদি তাতেও মন ভাল না হয়, যদি টানা সাতদিন আপনার মন খারাপই থাকে তাহলে কোনও থেরাপিস্টের কাছে গিয়ে কাউন্সেলিং করাতে পারেন। কিন্তু মনের কষ্ট চেপে রাখবেননা।

আপনি যদি দীক্ষিত হন তাহলে রোজ একমনে জপ ধ্যান করবেন ৫ থেকে ১ ০ মিনিট। আর যদি দীক্ষিত না হন, এমনিই ধ্যান বা মেডিটেশন করবেন। সম্ভব হলে ভোরবেলা চারিদিক যখন শান্ত থাকে সেই সময়ে বারান্দায় কিংবা ছাদে বসে ধ্যান করে দেখবেন মন একদম শান্ত হয়ে যাবে। এছাড়া ভালো বই পড়ুন কিংবা পছন্দের গান শুনুন। সুযোগ পেলে মন খুলে আড্ডা দিন।

৮. সৃষ্টিমূলক কিছু করুন

সারাক্ষণ সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকবেন না। ভেবে দেখুন আপনি কি কবিতা আবৃত্তি করতে বা গান গাইতে ভালোবাসেন। তাহলে নিজের পছন্দের দিকেও একটু মনোযোগ দিন— হতে পারে সেটা পেইন্টিং কিংবা লেখালেখি, হতে পারে সেটা গান শোনা কিংবা বাগান করা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কিছু। দেখবেন আপনার মনে একটা আনন্দের অনুভূতি হবে।

বাচ্চা একদিন ঠিক বড় হয়ে যাবে, তারও নিজের জগৎ তৈরী হবে। ভবিষ্যতে আপনার মনে হবে আপনি আপনার সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন। তাই সময় থাকতে থাকতে নিজের ভালোলাগার দিকেও একটু নজর দিন।

আমি সাঁতার কাটি, আবৃত্তি শিখি আর আপনাদের সাথে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ব্লগ লিখি।  

৯. হাসব্যান্ডের সঙ্গেও সময় কাটান

জীবনে সব সম্পর্কেরই মূল্য আছে। আপনি শুধুই মা নন, কারও স্ত্রীও বটে। তাই একজন জীবনসঙ্গী হিসেবেও নিজের সম্পর্কের যত্ন নিন।হাসব্যান্ডের সঙ্গে সংসারের ব্যাপারে, বাচ্চার ব্যাপারে কথা বলুন।বাচ্চার দেখাশোনায় হাসব্যান্ডের সাহায্য নিন। দুজনে মাঝে মাঝে একসঙ্গে সময় কাটান।একসাথে খেতে যান, সম্ভব হলে সিনেমা দেখুন। বাচ্চাকে নিয়েই বছরে দু – একবার কোথাও বেড়াতে যান। তাহলে দেখবেন সম্পর্কটা খুব সুন্দর থাকবে।

১০. ধৈর্য ধরে মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন

আজকে যে শিশু সবে জন্মাল সে একদিন হাঁটতে শিখে যায়, নিজে নিজে খেতে শিখে যায়। স্কুল কলেজ পেরিয়ে একদিন নিজের জীবনে ব্যস্ত হয়ে যায়। শিশুর এই বেড়ে ওঠার সময়গুলো খুব দ্রুত কেটে যায়। তাই প্রতিটি মুহূর্ত মন দিয়ে উপভোগ করুন।

আপনার রাত জাগার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, কাঁথা-কাপড়ও আর কাঁচতে হবেনা। খাইয়ে দিতে হবে না, আপনাকে জড়িয়ে ধরেও ঘুমোবে না। খেলনা ছড়িয়ে রাখবে না, জেদ-কান্নাকাটিও আর করবে না। শিশুর শৈশব তার স্মৃতিতে থাকবে না, থাকবে আপনার স্মৃতিতে। তাই ধৈর্য ধরে সন্তানের বড় হয়ে ওঠা দেখুন এবং ছোট ছোট মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন। ইচ্ছে হলে ডাইরিতে লিখে রাখুন ভালোলাগার মুহূর্তগুলো।

পড়ুন আমার অভিজ্ঞতা:  মাতৃত্ব:স্বপ্ন-আর-বাস্তব

বোনাস টিপস: দুটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টিপস আপনাদের জন্য 

১। মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত রাখুন 

অযথা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। বাচ্চার সাথে সময় কাটানোর সময়ে মোবাইলটা অন্য ঘরে রেখে আসবেন। এতে বাচ্চারও মোবাইল দেখার প্রতি আসক্তি তৈরী হবে না। সময় পেলে ঘুমিয়ে নেবেন অথবা নিজের সঙ্গে সময় কাটাবেন কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া যখন তখন মোবাইল ঘাঁটবেননা। আর ঘুমোনোর আগে পরে কখনই মোবাইল দেখবেন না। দেখবেন মন শান্ত থাকবে।

২। রুটিন মেনে চলুন

জীবনে সময় সীমিত। তাই ঘড়ির কাঁটা মেপেই আপনাকে চলতে হবে। আর ছোট বাচ্চা সামলে নিজের যত্নও নিতে হলে এই রুটিনই আপনার সব। আপনার সুবিধেমতো দৈনন্দিন সব কাজের একটা রুটিন বানিয়ে ফেলুন, তাহলে দেখবেন সময় ঠিক বেরিয়ে আসবে। সেখানে আপনার নিজের জন্যও সময় রাখবেন। প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া-ঘুমের অভ্যেস করুন। প্রথম প্রথম হয়ত অসুবিধে হবে, কিছুদিন কষ্ট করে রুটিন মেনে চললে দেখবেন অভ্যেস হয়ে গেছে।

আপনারা চাইলে আমার রুটিনটাও আপনাদের সাথে শেয়ার করব। কমেন্ট বক্সে জানাবেন। খুব ভালো থাকবেন, আনন্দে থাকবেন। নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেবেন।

আমার ঘরেও দুটি ছোট যমজ শিশু রয়েছে। তাদেরকে সামলে আমি যেভাবে নিজের যত্ন নিই তা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের কাজে লাগবে। আর আপনাদের কাছে যদি আরও কোনও টিপস থাকে তাহলে  আমাকে জানাতে ভুলবেন না। লেখাটি যদি আপনাদের কাজে লেগে থাকে তবে অন্যান্য মায়েদের সাথেও শেয়ার করবেন।

এছাড়া আপনাদের আর কোনও প্রশ্ন থাকলে আমার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামেও সরাসরি মেসেজ করতে পারেন। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব উত্তর দেওয়ার। 

আমার সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক

ফেসবুক

ইনস্টাগ্রাম

ইউটিউব চ্যানেল


Rate this post

Discover more from Debanjana Roy-Motherhood Journey

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Debanjana Roy

আমি দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। আমি ঘুরে বেড়াতে, বই পড়তে এবং সাঁতার কাটতে খুব ভালোবাসি। আর ভালোবাসি নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে। এখানে আমার দুই সন্তানকে বড় করে তোলার নানান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব আপনাদের সাথে। পড়ুন টুইন বেবি জার্নাল

Leave a Reply