Table of Contents
আমাদের গল্প
আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব আমাদের জীবনের নানান গল্প। আমাদের বিয়ে হয়েছিল সম্বন্ধ করে। সে আজ থেকে ১৭ বছর আগের কথা। ২০০৮ সালের জুন মাসের এক রবিবারে আনন্দবাজার পত্রিকায় পাত্র চাই এর বিজ্ঞাপনে আমার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ছাপা হলো। এরপর যথারীতি ফোন আসা শুরু হলো। বেছে বেছে ছবি ও বায়োডাটা পাঠানো শুরু হলো। তারপর বাড়িতে পাত্র পক্ষের পাত্রী দেখতে আসার পর্ব শুরু হলো।
পাত্রী দেখা পর্ব
সাধারণত আরেঞ্জড ম্যারেজের ক্ষেত্রে পাত্রীকে সেজেগুজে বসতে হয় পাত্র পক্ষের সামনে। আর পাত্র পক্ষ তাকে নানান ভাবে পরখ করে জানায় যে পাত্রী তাদের পছন্দ হয়েছে কিনা! কিন্তু আমার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম। তার প্রধান কারণ আমার বাবা। বাবা কোনোদিনও বলেননি সেজেগুজে বসার কথা।
আর সত্যি কথা বলতে, যে কয়টি পরিবার আমাকে দেখতে এসেছিলেন তাঁরা সকলেই যথেষ্ট শিক্ষিত এবং ভদ্র ছিলেন। আর তাঁরাও আমাকে পরোখ করে দেখার মতো কোনো অপমানজনক আচরণ করেননি। আমি বাবার উপদেশ অনুযায়ী শুধুই পরিপাটি হয়ে সকলের সাথে আলাপ করেছিলাম মাত্র। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘরোয়া আড্ডাই হয়েছিল বলতে পারেন।
আমার বেড়ে ওঠা
আমি বড় হয়েছি এই কলকাতা শহরেই। তবে আমি বাবার এমন কড়া অনুশাসনে বড় হয়েছিলাম যে, বয়ফ্রেন্ড তো দূর আমার কোনোদিনও কোনও ছেলে-বন্ধুই ছিল না। বাবা-ই মাথায় ঢুকিয়েছিল যে, যথাসময় আমার জন্য বিবাহযোগ্য পাত্র দেখা হবে, দু’ পক্ষ থেকে পাকা কথা হবে এবং চেষ্টা করা হবে পাকা কথা থেকে বিয়ের মধ্যে কিছুদিন সময় রাখার। সেই সময় আমি এবং আমার হবু বর দেখা-সাক্ষাৎ ওরফে প্রেমালাপ করতে পারবো।
বাস্তবে কী ঘটেছিল
সব ক্ষেত্রে একথা সত্যি হোক না হোক, আমার ক্ষেত্রে বাস্তবে তাই-ই হয়েছিল। এ যেন সেই ‘ল অফ এট্ট্রাকশনে’র কথা। যাই হোক, ২০০৮ এর ১৫ই অগাস্ট ছিল আমাদের বিয়ের পাকা কথার দিন। আর বিয়ে হয়েছিল ২০০৯ এর ১লা ফেব্রুয়ারী। আত্মীয়রা সবাই জানল যে পাকা কথার দিনই আমরা প্রথম ফোনে কথা বলা শুরু করেছিলাম। না আদতে আমিই উদ্যোগ নিয়ে অর্কুট থেকে খুঁজে বের করে তার একদিন আগে থেকেই কথা বলা শুরু করেছিলাম। তখনতো ফেসবুক ছিল না ছিল অর্কুট।
সেই শুরু হলো
সেই থেকে শুরু হলো আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা। প্রথম দিন থেকেই ফোনে কথা হতো অনেক রাত পর্যন্ত। এমনকি মাঝে মাঝে ফোনের চার্জও ফুরিয়ে যেতো। তখন তো ফোন বলতে সেই ছোট ছোট ফোন। চ্যাট করার কোনও সুযোগই ছিল না তাতে। চ্যাট করতে হলে সেই ঢাউস কম্পিউটার খুলে গুগল মেসেঞ্জারে। আমার ফোন রিচার্জ করার দায়িত্বও নিয়েছিল আমার হবু বর।
প্রথম দেখা
১৬ই অগাস্টই আমরা প্রথম দেখা করি, সেদিন অবশ্য পরে বোনও যোগ দিয়েছিল। আমার সেদিন দুপুরবেলা ঢাকুরিয়াতে একটা কাজ ছিল। কাজটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মিটিয়ে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই আমরা দুজনেই পৌঁছে যাই দক্ষিণাপণে। ঠিক যেন সেই ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ সিনেমাটার মতো।
প্রথমে কিছুক্ষণ ওখানে সিঁড়িতে বসেই কথা বলেছিলাম। বসেওছিলাম অবশ্য একটু দূরত্ব রেখেই। বিকেলের দিকে বোনও পৌঁছলে আমরা তিনজনে মিলে উল্টোদিকেরই একটা রেঁস্তোরায় যাই। সেখানে অবশ্যই আমি বোনের সাথে বসেছিলাম। কি খেয়েছিলাম আজ আর মনে নেই তবে তিনজনে মিলে ভালোই আড্ডা দিয়েছিলাম মনে আছে। তারপর আর কি! আমি বোনের সাথে বাড়ি ফিরে গেলাম একরাশ বিরহ নিয়ে। প্রথম দিন থেকেই যে মনের মধ্যে এতো উথালপাতাল শুরু হতে পারে কারও জন্য সে কথা সেদিনই প্রথম আবিষ্কার করলাম। আমার সেই প্রেম-বিরোধী মনোভাব এক লহমায় উধাও হয়ে গেলো।
প্রেমপর্ব
তারপর থেকে প্রতি সপ্তাহে আমরা দুজন দেখা করতাম। বহুবার দেখা করেছি, বহু ভালো ভালো সিনেমা দেখেছি। দেখা হলেই ফুচক-আলুর চপ থেকে আইসক্রিম যা যা আমার খাওয়া বারণ ছিল সব খেতাম। এখানে একটা মজার কথা বলি, আমি কিন্তু আমার হবু বরের সাথেই প্রথম সেভাবে ফুচকা খেয়েছি। কলেজে পড়তে বন্ধুরা যখন ফুচকা খেতো আমি তখন ওদের ব্যাগগুলো ধরে দাঁড়াতাম, নিজে খেতাম না। কারণ বাবা বলেছিলেন ফুচকা খুব অস্বাস্থ্যকরভাবে বানানো হয়। আমি অবশ্য এখনো তাইই মনে করি। আর এখনও বরকে ছাড়া তেমন ফুচকা খাইনা, তবে প্রেমপর্বে প্রচুর ফুচকা খেয়েছি। প্রেমের সাথে ফুচকার যেন একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে।
আমার জীবনের নানান ঘটনা জানতে পড়ুন মুক্ত বিহঙ্গ – আমার প্রথম ব্লগ ।
কী কী বাধা এসেছিল
আমরা সাধারণত সপ্তাহে একদিনের বেশি দেখা করতাম না তবুও দুই বাড়ি থেকেই কেন জানিনা খুব আপত্তি উঠত এই দেখা করা নিয়ে। আমার বাবার অবশ্য সায় ছিল। বাবা বলতেন, দু’জনে দু’জনকে একটু বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। যদি কোনও গন্ডগোল চোখে পড়ে তবে বিয়ে নাকচও করে দেওয়া যাবে। আবার ফোনে কথা বলা নিয়েও যে কারও কোনো বক্তব্য ছিল না তা নয়। আমার বাবার আপত্তি ছিল বেশি রাত পর্যন্ত কথা বলা নিয়ে। আর আমার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা বলতেন এতো কথা এখনই বলে নিলে একদিন কথা ফুরিয়ে যাবে। কথাটা যে খুব ভুল তা নয়।
কোথায় দেখা করতাম
আমার সাথে দেখা করতে আমার বরকেই বাসে করে আমার বাড়ির কাছাকাছি আসতে হতো। কারণ তাহলে আমি তাড়াতড়ি বাড়ি ফিরতে পারবো। তখন হাইল্যান্ড পার্কে বিগবাজারের ওপরে ‘ইওর ফুডিজ’ বলে একটা ফুড প্লাজা ছিল। বেশিরভাগ সময় আমরা সেখানেই দেখা করতাম। নাহলে পাটুলী মোড়ে দেখা করে ঝিলের পারে বসে খানিক আড্ডা দিতাম, আর তারপর ফুচকা নয় আলুর চপ খেয়ে রিক্সা করে বাড়ি ফিরে যেতাম। আর আমার হবু বর বাসে করে বাড়ি ফিরত আমার সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে।
বিরহ পর্ব
বিয়ের আগের পুজোতে আমাদের একসাথে ঠাকুর দেখা হয়নি। কারণ ঠিক তখনই আমার বর এক মাসের জন্য অন সাইটে জার্মানিতে ছিল।
….চলবে।
আমার সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক
আমি দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। আমি ঘুরে বেড়াতে, বই পড়তে এবং সাঁতার কাটতে খুব ভালোবাসি। আর ভালোবাসি নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে। এখানে আমার দুই সন্তানকে বড় করে তোলার নানান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব আপনাদের সাথে। পড়ুন টুইন বেবি জার্নাল
Discover more from Debanjana Roy-Motherhood Journey
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
