Table of Contents
আমার সম্পর্কে
নমস্কার, আমি দেবাঞ্জনা রায়, যমজ সন্তানের মা। দুটি ছোট্ট শিশুকে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার সাথে তিলতিল করে মানুষ করে তোলাই আমার অন্যতম দায়িত্ব। এই দায়িত্বটা অত্যন্ত পরিশ্রমের তবুও এই দায়িত্বটা আমি খুব উপভোগ করি।আমার সম্পর্কে দু-চার কথা
- আমার জন্ম, বড় হওয়া, স্কুল-কলেজ সবই কলকাতায়।
- আমি ঘুরে বেড়াতে, বই পড়তে এবং সাঁতার কাটতে খুব ভালোবাসি।
- এর পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখে রাখতেও খুব ভালোবাসি। তাই এই ব্লগ লেখার নেশা।
- আমার বিয়ের ১২ বছর পর আমি প্রথম মা হই। এই ১২ বছরে আমরা বহু দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। তার পাশাপাশি চিকিৎসাও চলেছে অবশ্য।
- এছাড়া আমি একটি এন. জি. ও.-র সাথে ভলান্টিয়ার হিসেবে যুক্ত। ওঁদের সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওয়েবসাইট দেখাশোনা করি।
এই বারো বছরের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, তা জানতে হলে পড়ুন অপেক্ষার ১২ বছর।
কীভাবে শুরু হল ব্লগ
আমার প্রথম ব্লগ
ডাইরী লেখার অভ্যেস আমার অনেকদিনের। কোভিড-১৯ এর ফলে তখন লকডাউন চলছে। বাড়ি থেকে বেরোনো সম্পূর্ণ বন্ধ। সেই সময়ে খুলে বসলাম পুরনো ডাইরীগুলো। চোখের সামনে ভেসে উঠল পুরোনো দিনের কথা। মনে হল গল্পগুলো ইন্টারনেটে কোথাও তোলা থাক। কেউ পড়লে পড়বে, নাহলে আমিই পড়ব। সেই সময়ে শুরু হল আমার প্রথম ব্লগ ওয়েবসাইট। লিখে ফেললাম জীবনের নানান অভিজ্ঞতার কথা। নাম দিলাম ‘মুক্তবিহঙ্গ ‘পড়ে দেখুন ‘মুক্তবিহঙ্গ ‘
আমার দ্বিতীয় ব্লগ
বিয়ের পর প্রথম ১২ বছরে আমরা দেশ – বিদেশের নানান জায়গায় বেড়াতে গেছি। ইউরোপের ১২ টি দেশ ঘুরেছি। প্রথম ব্লগটিতে পাঠকদের অভাবনীয় সাড়া পেয়ে ঠিক করি যে আমার ভ্রমণ অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে একটি ওয়েবসাইট বানাব। সেই সব অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘eternal journeys’ নামে আবারও একটি ওয়েবসাইট শুরু করি ২০২০ সালে। সেখানে মূলত ভ্রমণ কাহিনী লিখতাম। তারপর যখন কোভিদের দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ আকার ধারণ করল, চারিদিকে মৃত্যু – মিছিল। সেই সময়ে এল আমার জীবনের প্রথম প্রেগনেন্সি। আমার প্রথম প্রেগনেন্সি বিয়ের ১২ বছর পর, তাও আবার টুইন। ২০২১-এর ডিসেম্বর নাগাদ যমজ সন্তানের জন্ম হল।এক ছেলে ও এক মেয়ে। এই পুরো সময়টাই ওয়েবসাইটে লেখালিখি একপ্রকার বন্ধই হয়ে যায়।প্রেগনেন্সি: যমজ সন্তান
যেদিন থেকে গর্ভে যমজ শিশুর অস্তিত্বের কথা জানতে পারি, সেদিন থেকেই মনের মধ্যে নানান প্রশ্ন উঁকি দিতে থাকে। এই সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানান পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। স্বভাবতই, কোনো কোনো সময়ে মনের অস্থিরতা দূর করতে ইন্টারনেটে উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছি। সেই সময়ে খেয়াল করি যে, যমজ শিশু সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বাংলায় তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইট নেই। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল এই সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ব্লগ লেখার।সময় কোথা
প্রেগনেন্সি পিরিয়ডে নানান সমস্যার কারণে বসে লিখতে পারতামনা। ওদের জন্মের পর থেকে তো ব্যস্ততা আরোই বেড়ে গেল। তখন যমজ সন্তানদের খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, তাদের অসুখ-বিসুখ, তাদের কান্নাকাটি সামলাতেই দিন – রাত কেটে যেত। প্রথম থেকেই লোক থাকলেও নিজের দায়িত্ব তো কমে যায়না। ওয়েবসাইটে লেখা সম্ভবপর না হলেও প্রথম থেকেই ডাইরিতে লিখে রাখতাম আমার এই মাদারহুড জার্নির কথা। অনেকেই জিগ্যেস করেন আমি দু’জন শিশুকে একসাথে সামলাই কি করে ! অসুবিধে হয় কিনা ! ওই সময়ে, সবদিক সামলাতে নতুন মা-বাবাকে একটু হিমশিম খেতে হয়, বৈকি। আমরাও তার ব্যাতিক্রম নই।তবে সময়ের সাথে সাথে সবটাই অভ্যেস হয়ে যায়। আসলে আমরা তো প্রথম দিন থেকেই এ ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রস্তুত।নিজের যত্ন
বাচ্চা জন্মানোর পর শুধু বাচ্চার নয়, মাকে নিজের যত্নও নিতে হয়। মা-র নিজের শরীর ও মনের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। নাহলে তিনজনের এই জার্নিটা মসৃন হবে কী ভাবে! কিন্তু প্রথমদিকে বিভিন্ন সমস্যায় খুব দিশেহারা লাগত। মনে হত কোনও অভিজ্ঞ বাবা-মায়ের থেকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারলে হয়ত কিছুটা সুবিধে হবে। সঠিক জ্ঞানের অভাবে আমাকে ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতিতে অনেক সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে, সময়ও নষ্ট হয়েছে। তবে শিখেছি অনেক কিছু । ব্লগ ওয়েবসাইটটা তো ছিলই।ঠিক করি যে, এবার আর শুধু ভ্রমণ কাহিনী নয়,বরং নতুন মা-বাবারা যমজ শিশুদের নিয়ে যে সব সমস্যায় ভোগেন, সেগুলোর সম্ভাব্য সমাধান আমার ওয়েবসাইটে লিখে রাখব। নতুন মা – বাবাদের একটু সাহায্য হবে। তবে বহুদিন পর্যন্ত সময়ই বের করতে পারতাম না জানেন।ব্লগ শুরু হল
আমার যমজ সন্তানরা দু’বছর বয়স থেকে প্রি-স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। তখন থেকে আমিও হাতে কিছুটা সময় পেয়েছি। তাই আবারও ওয়েবসাইটটা নিয়ে বসা শুরু করি। প্রথমেই ওয়েবসাইটের নাম বদলে www.debanjanaroy.com করি।এক বছর হল। এখনও পুরোপুরি সাজিয়ে উঠতে পারিনি। কাজ চলছে। এখন থেকে এই ওয়েবসাইটে ভ্রমণ কাহিনীর পাশাপাশি থাকবে আমার মাদারহুড জার্নির কথা এবং প্যারেন্টিং সংক্রান্ত নানান তথ্য। যমজ সন্তান সংক্রান্ত অংশটির নাম রেখেছি ‘টুইন বেবি জার্নাল’। আর ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে তৈরী অংশটির নাম ‘ভ্রমণ’। আমি মনে করি, বাচ্চার পাশাপাশি মায়েরও নিজের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়াটা খুব জরুরী। তাই ‘মায়ের জন্য’ নামেও একটি আলাদা বিভাগ তৈরী করলাম। আমি যেহেতু প্রেগনেন্সির শুরু থেকেই ডাইরিতে সব কিছু লিখে রাখতাম, তাই এখন কাজটা এগোতে খুব একটা অসুবিধে হচ্ছেনা।আশা করছি এই ব্লগ আপনাদের কাজে লাগবে।পড়ুন আমার অভিজ্ঞতা: মাতৃত্ব:স্বপ্ন-আর-বাস্তব
আপনারা যা যা জানতে পারবেন এই Twin Baby Journal অংশটি থেকে
- প্রেগনেন্সির সময়ের নানান অভিজ্ঞতা
- হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতা
- NICU সম্পর্কে নানান তথ্য
- যমজ শিশুর পেরেন্টিং নিয়ে নানান তথ্য
- বাচ্চা জন্মানোর পর থেকে যে সব জিনিস প্রয়োজন হয় সেগুলো সম্পর্কে মতামত
- প্রি-স্কুল এবং বড় স্কুলে এডমিশন নিয়ে নানান তথ্য
- মায়েদের কাজের সুবিধের জন্য আমার তৈরী কিছু রুটিন। এগুলো আপনারা পিডিএফ ফর্মে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
আমার সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক
ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম ইউটিউব চ্যানেল
ডিসক্লেইমার: আমি ডাক্তার কিংবা কোনও বিশেষজ্ঞ নই। আমি শুধুই একজন মা হিসেবে আমার অভিজ্ঞতার কথা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিচ্ছি। তাই আপনার বাচ্চার কোনও গভীর সমস্যা হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করবেন।
আমি দেবাঞ্জনা রায়- যমজ সন্তানের মা। আমি ঘুরে বেড়াতে, বই পড়তে এবং সাঁতার কাটতে খুব ভালোবাসি। আর ভালোবাসি নিজের অভিজ্ঞতা লিখে রাখতে। এখানে আমার দুই সন্তানকে বড় করে তোলার নানান অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব আপনাদের সাথে। পড়ুন টুইন বেবি জার্নাল
Discover more from Debanjana Roy-Motherhood Journey
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
