Table of Contents
যমজ সন্তান
আপনি কি প্রেগনেন্ট কিংবা সদ্য মা হয়েছেন? আপনার কি যমজ শিশু-সন্তান? একসাথে দুজনকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন! তাহলে এই ওয়েবসাইটটি আপনার জন্য।
সন্তান মাত্রেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ। আর যমজ সন্তান যেন জীবনের পরম প্রাপ্তি। তবে একথাও সত্যি যে, যমজ সন্তান যেমন দ্বিগুন আনন্দের, তেমনই দ্বিগুণ দায়িত্বেরও।
নতুন মা প্রথম প্রথম বুঝে উঠতে পারে না যে, কাকে ছেড়ে কাকে সামলাবে। প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তখন মনে হয়, অন্য কোনো যমজ শিশুর মায়ের অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারলে হয়তো কিছুটা সুবিধে হতো।
আমাদের কথা
আমার প্রথম প্রেগনেন্সি বিয়ের ১২ বছর পর।যেদিন থেকে গর্ভে যমজ শিশুর অস্তিত্বের কথা জানতে পারি, সেদিন থেকেই মনের মধ্যে নানান প্রশ্ন উঁকি দিতে থাকে। এই সময় থেকেই নানান শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে।
স্বভাবতই, কোনো কোনো সময়ে মনের অস্থিরতা মেটাতে ইন্টারনেটে উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেছি। সেই সময়ে খেয়াল করি যে, যমজ শিশু সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বাংলায় তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট ওয়েবসাইট নেই।
যমজ সন্তান: আমার অভিজ্ঞতা
আমার এক ছেলে আর এক মেয়ে। প্রথম থেকেই মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম যে, আমার অভিজ্ঞতাগুলো আপনাদের জন্য লিখে রাখব। প্রথম প্রথম ডাইরীতে লিখে রেখেছিলাম, যাতে ভুলে না যাই।
এখন ওদের বয়স আড়াই বছর, ওরা প্রি-স্কুলে যায়।ওদের খাওয়া-ঘুমের সময়টাও নির্দিষ্ট।তাই এখন আমার হাতে কিছুটা হলেও সময় থাকে।
আমার এই অবসর সময়ে এই ওয়েবসাইটে আমার আড়াই বছরের অভিজ্ঞতা আপনাদের জন্য সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই সব তথ্যগুলো যদি আপনাদের কাজে লাগে তাহলেই আমার লেখা সার্থক। ওয়েবসাইটের এই অংশটির নাম দিলাম টুইন বেবি জার্নাল।
এই টুইন বেবি জার্নাল অংশে আপনারা যমজ শিশু সংক্রান্ত নানান তথ্য এবং আমার অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারবেন ।
পড়ুন আমার অভিজ্ঞতা: মাতৃত্ব:স্বপ্ন-আর-বাস্তব
মা আর যমজ সন্তান: তিনজন একসাথে
মা আর যমজ সন্তান – এই তিনজনের একসাথে পথ চলাটা শুরু হয় প্রেগনেন্সির সময় থেকেই। তারপর যতদিন যায়, বন্ধন ততই দৃঢ় হতে থাকে।
প্রথম দিকে শুধুই হার্টবিট শোনা।তারপর ১২ সপ্তাহ পার করে একটু একটু করে অনুভব করা- শরীরের মধ্যে হঠাৎ করে একটা ঢেউ খেলে যাওয়ার অনুভূতি। যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে সবই দ্বিগুণ।
যখন সময় এগিয়ে আসে, তখন কোনো কোনোদিন যেন মনে হয়, শিশুর মাথাটা কোনদিকে বুঝতে পারছি।দুজনকেই স্পর্শ করতে খুব ইচ্ছে করে।
শেষ দিকে শরীর খুব ভারী হয়ে যায়। চলাফেরা করাই মুশকিল হয়ে পরে। খুব সাবধানে থাকতে হয়। শিশুরা নড়ছে কিনা খেয়াল রাখতে হয়।
আবার একটু দুশ্চিন্তাও হয় বৈকি। যদি সময়ের আগেই জন্ম হয়ে যায়, তাহলে কিছুদিন হয়ত বাচ্চাকে NICUতেও রাখতে হতে পারে।
তবে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকেই শুরু হয় আসল লড়াইটা। পরিবারের মানুষজনের সাহায্য নতুবা আয়ার সাহায্য – নাহলে নতুন মায়ের অবস্থা শোচনীয়। মায়েরও যে তখন যত্নের প্রয়োজন। এদিকে খাওয়া ঘুমের তো দফারফা।
রুটিন মেনে চলা
সত্যি কথা বলতে কি, প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হলেও সময়ের সাথে সাথে সবটা সামলে যায়। আসলে, আমরা তো প্রথম দিন থেকেই যমজ শিশু নিয়েই চলতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত, বাকিটা অভ্যেস।
তবে সবদিক ঠিকমতো সামলাতে আপনাকে একটা রুটিন বানিয়ে ফেলতে হবে, প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু হাতের কাছে লিখে রাখতে হবে।
কখন খাবার (দুধ, জল বা সলিড) খাওয়াতে হবে, কতটা পরিমাণে খাওয়াতে হবে, কখন কী ওষুধ খাওয়াতে হবে সবকিছুই যদি লিখে রাখেন তাহলে দেখবেন আপনার পক্ষেও সুবিধে হবে। বাচ্চার দেখাশুনো করতে আয়া বা বাড়ির অন্য কোনো সদস্যের পক্ষেও সুবিধেজনক হবে।
চিন্তা করবেন না, এব্যাপারে আমিও আপনাদের সাহায্য করব। আমার তৈরী সমস্ত রুটিন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আপনারা ধীরে ধীরে সেগুলো পিডিএফ ফর্মে ডাউনলোড করে আপনাদের মতো করে রুটিন বানিয়ে ফেলতে পারবেন।
আর একটা কথা, সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে বাচ্চার আঘাত লাগা এবং অসুখ-বিসুখের ক্ষেত্রে।
আপনারা কী কী জানতে পারবেন এই Twin Baby Journal অংশটি থেকে?
- প্রেগনেন্সির সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানান সুবিধে অসুবিধের কথা,
- হাসপাতালের দিনগুলোর অভিজ্ঞতার কথা,
- NICU সম্পর্কে ধ্যান ধারণা,
- শিশু প্রতিপালন বা পেরেন্টিং নিয়ে নানান তথ্য,
- বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সম্পর্কে মতামত,
- মায়ের নিজের যত্নের কথা
- এছাড়াও থাকবে মায়ের সুবিধের জন্য রুটিন পিডিএফ ফর্মে।
সর্বোপরি জানাই যে, এইসব তথ্য যে শুধুমাত্র যমজ শিশুর মা-বাবার জানা প্রয়োজন তা নয়, যে কোনো শিশুর মা-বাবারই কাজে লাগতে পারে।
তাই সকল নতুন মা-বাবা, দাদু-দিদা কিংবা দাদু-ঠাকুমাকেই জানাই সাদর আমন্ত্রণ।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Twin Baby Journal
আপনাদের অভিজ্ঞতা আমারও কাজে লাগবে। তাই আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।
আর আপনাদের কোনও প্রশ্ন থাকলে আমার ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামেও সরাসরি মেসেজ করতে পারেন।
